দুর্গাপূজা মানেই উৎসবের এক নতুন সুর, যা মাটির প্রদীপ আর ঢাকের সাথে মিশে আমাদের মনে এক নতুন আলোর সঞ্চার করে। এই বছর, চতুর্থ বর্ষে, আমরা ফিরে এসেছি এক নতুন ভাবনায়, যা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত। CraftSocially শারদ সম্মান ২০২৪ সেইসব শিল্পীদের প্রতি উৎসর্গীকৃত, যারা তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই উৎসবকে এক নতুন রূপ দিয়েছেন।
এই বছর আমাদের সম্মাননা স্মারকটি তৈরি হয়েছে পবিত্র শঙ্খের আদলে। শঙ্খ হলো শুভ সূচনা এবং বিজয়ের প্রতীক, যা পূজার পবিত্রতাকে বহন করে। শঙ্খের শুভ ধ্বনি যেমন উৎসবের আগমন বার্তা দেয়, তেমনই এই স্মারকটি শিল্পীদের সাফল্যের জয়ধ্বনি। শঙ্খের কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী ডোকরা শিল্পে তৈরি মা দুর্গার এক ক্ষুদ্র প্রতিমা। এটি কেবল একটি প্রতিমা নয়, এটি বাংলার লোকশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন, যা শত বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে।
এই সম্মানের মাধ্যমে আমরা শুধু শ্রেষ্ঠত্বকে উদযাপন করছি না, বরং আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও শিল্পীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। ডোকরা শিল্প যেমন শঙ্খের সাথে মিশে এক নতুন রূপ ধারণ করেছে, তেমনই এই সম্মাননা আগামী প্রজন্মকে আমাদের নিজস্ব শিল্প ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে। এই সম্মান সেইসব মানুষদের জন্য, যারা নিজেদের হৃদয়ের ভালোবাসা ও শৈল্পিক দৃষ্টি দিয়ে এই উৎসবকে আরও সুন্দর করে তোলেন।
এই অনন্য স্মারকটি ডিজাইন করেছেন আমাদের নিবেদিত ডিজাইনার দল: অভিজিৎ প্রধান, চন্দ্র শেখর সেনগুপ্ত, জয়শঙ্কর সেনগুপ্ত, সুজা ঘরামী, দেবপ্রসাদ দে এবং সৌগত দাস। পুরো স্মারকটি তৈরি করেছেন শঙ্কর চক্রবর্তী, যিনি অত্যন্ত যত্ন ও দক্ষতার সাথে এর প্রতিটি অংশ একত্রিত করেছেন। এই স্মারকে বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী ডোকরা শিল্পে তৈরি মা দুর্গার প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের সূক্ষ্ম কারুশিল্পের এক দারুণ উদাহরণ।
এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও অনেক প্রতিভাবান মানুষ। সোনালী রঙের ধাতব লোগোটি তৈরি করেছেন মোঃ আলামিন এবং কাঠ খোদাই করেছেন কিশোর। সৌগত মজুমদার-এর নেতৃত্বে ইলেকট্রনিক্স দল, যেখানে সুমন বর্মন এবং সুমিত ঘোষ ঢাকের আলো ও শব্দ নিয়ে কাজ করেছেন। চিত্রকর্মের কাজ করেছেন গুরু দাস, বিপ্লব ভট্টাচার্য, মোঃ জাকির, এব্রাহিম মণ্ডল, সফিক এবং শহীদ। ফটোগ্রাফি দলের সদস্য ছিলেন রবিশঙ্কর সেনগুপ্ত এবং চন্দ্র শেখর সেনগুপ্ত।
এই পুরস্কারের মাধ্যমে আমরা শুধু শ্রেষ্ঠত্বকে উদযাপন করছি না, বরং প্রবীণদের প্রতি আমাদের সমাজের দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ আগামী বছরগুলোতে আরও অনেক পূজা কমিটিকে প্রবীণদের কথা ভেবে প্যান্ডেল সাজানোর জন্য উৎসাহিত করবে।শঙ্খের শুভ ধ্বনিতে এক নতুন স্বীকৃতি